ঢাকা ০১:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম ::
​শিল্পী সমিতির দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদপ্রার্থী নায়ক রাসেল মিয়া ​শিল্পী সমিতির দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদপ্রার্থী নায়ক রাসেল মিয়া আমেরিকা থেকে প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় প্রথম হলেন খুলনার “বিশিষ্ট কবি শওকত আলম” “”শাহ্ সুফী মাহফুজ রহমান’র দুটি কবিতা “ পাকুন্দিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাবেক জিএস আলহাজ্ব আহমদ ফারুক খোকন-এর গণসংযোগ দৈনিক নরসুন্দা সংবাদ এর সম্পাদক আফসার আশরাফী পেলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ স্মৃতি সম্মাননা-২৫ কবি শওকত আলম এর দুটি কবিতা…………………… কালের নতুন সংবাদ এর সম্পাদক খায়রুল ইসলামের জন্মদিন দৈনিক নরসুন্দা সংবাদ ও মাসিক সাময়িকী ঈসাখাঁ সাহিত্যপত্র-এর যৌথ উদ্যোগে পদক প্রদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মানবতার ফেরিওয়ালা খ্যাত পাকুন্দিয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার স্বপন কুমার দত্তের বদলী জনিত বিদায়ী সংবর্ধনা

ইসলামী জীবন ও ভ্রূণ হত্যা মহাপাপ

 

ডাঃ এইচ. এম. আব্দুল্লাহ মাহিম

নিশ্চয়ই তাদের হত্যা করা মহাপাপ।’ (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩১)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন জীবন্ত সমাধিস্থ কন্যাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, কি অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছে?’ (সুরা তাকভির, আয়াত : ৮-৯)

ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে ভ্রূণ হত্যা

ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে ভ্রূণ হত্যা নিষিদ্ধ। নির্ধারিত সময় পার হলে ভ্রূণ হত্যা দণ্ডনীয় অপরাধ। নিম্নে ভ্রূণ হত্যার ব্যাপারে ইসলামী শরিয়তের বিধান তুলে ধরা হলো—

১. ভ্রূণ হত্যা মানব মর্যাদার পরিপন্থী : মাতৃগর্ভে স্থিতিশীল ভ্রূণ যে পর্যায়ে থাকুক না কেন তা ফেলে দেওয়া মানব মর্যাদার পরিপন্থী।

ইসলামী শরিয়ত অনুমোদিত কারণ ছাড়া সাধারণ ও স্বাভাবিক অবস্থায় গর্ভনিরোধ, গর্ভপাত ও ভ্রূণ হত্যা নিষিদ্ধ। বিশেষত কারণটি যখন আর্থিক হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের দারিদ্র্যের ভয়ে হত্যা কোরো না। আমিই জীবিকা দিই তাদের এবং তোমাদের।

নিশ্চয়ই তাদের হত্যা করা মহাপাপ।’ (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩১)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন জীবন্ত সমাধিস্থ কন্যাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, কি অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছে?’ (সুরা তাকভির, আয়াত : ৮-৯)

ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে ভ্রূণ হত্যা

ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে ভ্রূণ হত্যা নিষিদ্ধ। নির্ধারিত সময় পার হলে ভ্রূণ হত্যা দণ্ডনীয় অপরাধ। নিম্নে ভ্রূণ হত্যার ব্যাপারে ইসলামী শরিয়তের বিধান তুলে ধরা হলো—

১. ভ্রূণ হত্যা মানব মর্যাদার পরিপন্থী : মাতৃগর্ভে স্থিতিশীল ভ্রূণ যে পর্যায়ে থাকুক না কেন তা ফেলে দেওয়া মানব মর্যাদার পরিপন্থী।

কেননা এই পক্রিয়ায় মানুষ অস্তিত্ব লাভ করে। আল্লাহ বলেন, ‘আমি মানব সন্তানকে সম্মানিত করেছি…। (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৭০)

২. ভ্রূণ হত্যা নিষিদ্ধ : ভ্রূণ যে পর্যায়েই থাকুক না কেন শরিয়ত অনুমোদিত কারণ ছাড়া তা হত্যা করা নিষিদ্ধ। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘যখন সে প্রস্থান করে তখন সে পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টির এবং শস্যক্ষেত ও ‘নসল’ (বংশধারা) নিপাতের চেষ্টা করে।

আর আল্লাহ বিশৃঙ্খলা পছন্দ করেন না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২০৫)

৩. ভ্রূণ হত্যা মানবহত্যা : ফিকহ শাস্ত্রের সব ইমাম এক মত যে মানব ভ্রূণে ‘রুহ’ ফুঁকে দেওয়ার পর তথা গর্ভধারণের ১২০ দিন পর তা গর্ভপাত করানো একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হত্যার সমান অপরাধ। কেননা রুহ তথা জীবন লাভ করায় সে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে বিবেচিত। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যথার্থ কারণ ছাড়া আল্লাহ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন তোমরা তাকে হত্যা কোরো না।’ (সুরা আনআম, আয়াত : ১৫১; আল-কাওয়ানিন আল-ফিকহিয়্যা, পৃষ্ঠা ১৪১)

৪. বিশেষ প্রয়োজনে ছাড় : গর্ভস্থ সন্তানের মধ্যে ‘রুহ’ সৃষ্টির আগেও ভ্রূণ হত্যা করা নিষিদ্ধ।

তবে শরিয়ত অনুমোদিত কারণে গর্ভপাত করা জায়েজ আছে। যেমন মায়ের জীবন শঙ্কার মধ্যে পড়া। তবে এই ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ও দ্বিনদার চিকিৎসকের মতামত গ্রহণ করতে হবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘কিন্তু যে অনন্যোপায় অথচ অবাধ্য নয় কিংবা সীমালঙ্ঘনকারী নয়, তার কোনো পাপ নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৭৩;

আল ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু, পৃষ্ঠা ৫০২০)

আল্লাহ সবাইকে ভ্রূণ হত্যার মতো গর্হিত অপরাধ থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

➤লেখক : সাবেক সহকারী মেডিকেল অফিসার

রাবেয়া হেলথকেয়ার এন্ড মেডিসিন কর্নার।

➤General Physician at NAZRA AL ANIKA CO.LTD

Jeddah. KSA.

ট্যাগস :

​শিল্পী সমিতির দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদপ্রার্থী নায়ক রাসেল মিয়া

ইসলামী জীবন ও ভ্রূণ হত্যা মহাপাপ

আপডেট সময় : ০৭:১৩:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

 

ডাঃ এইচ. এম. আব্দুল্লাহ মাহিম

নিশ্চয়ই তাদের হত্যা করা মহাপাপ।’ (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩১)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন জীবন্ত সমাধিস্থ কন্যাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, কি অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছে?’ (সুরা তাকভির, আয়াত : ৮-৯)

ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে ভ্রূণ হত্যা

ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে ভ্রূণ হত্যা নিষিদ্ধ। নির্ধারিত সময় পার হলে ভ্রূণ হত্যা দণ্ডনীয় অপরাধ। নিম্নে ভ্রূণ হত্যার ব্যাপারে ইসলামী শরিয়তের বিধান তুলে ধরা হলো—

১. ভ্রূণ হত্যা মানব মর্যাদার পরিপন্থী : মাতৃগর্ভে স্থিতিশীল ভ্রূণ যে পর্যায়ে থাকুক না কেন তা ফেলে দেওয়া মানব মর্যাদার পরিপন্থী।

ইসলামী শরিয়ত অনুমোদিত কারণ ছাড়া সাধারণ ও স্বাভাবিক অবস্থায় গর্ভনিরোধ, গর্ভপাত ও ভ্রূণ হত্যা নিষিদ্ধ। বিশেষত কারণটি যখন আর্থিক হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের দারিদ্র্যের ভয়ে হত্যা কোরো না। আমিই জীবিকা দিই তাদের এবং তোমাদের।

নিশ্চয়ই তাদের হত্যা করা মহাপাপ।’ (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩১)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন জীবন্ত সমাধিস্থ কন্যাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, কি অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছে?’ (সুরা তাকভির, আয়াত : ৮-৯)

ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে ভ্রূণ হত্যা

ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে ভ্রূণ হত্যা নিষিদ্ধ। নির্ধারিত সময় পার হলে ভ্রূণ হত্যা দণ্ডনীয় অপরাধ। নিম্নে ভ্রূণ হত্যার ব্যাপারে ইসলামী শরিয়তের বিধান তুলে ধরা হলো—

১. ভ্রূণ হত্যা মানব মর্যাদার পরিপন্থী : মাতৃগর্ভে স্থিতিশীল ভ্রূণ যে পর্যায়ে থাকুক না কেন তা ফেলে দেওয়া মানব মর্যাদার পরিপন্থী।

কেননা এই পক্রিয়ায় মানুষ অস্তিত্ব লাভ করে। আল্লাহ বলেন, ‘আমি মানব সন্তানকে সম্মানিত করেছি…। (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৭০)

২. ভ্রূণ হত্যা নিষিদ্ধ : ভ্রূণ যে পর্যায়েই থাকুক না কেন শরিয়ত অনুমোদিত কারণ ছাড়া তা হত্যা করা নিষিদ্ধ। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘যখন সে প্রস্থান করে তখন সে পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টির এবং শস্যক্ষেত ও ‘নসল’ (বংশধারা) নিপাতের চেষ্টা করে।

আর আল্লাহ বিশৃঙ্খলা পছন্দ করেন না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২০৫)

৩. ভ্রূণ হত্যা মানবহত্যা : ফিকহ শাস্ত্রের সব ইমাম এক মত যে মানব ভ্রূণে ‘রুহ’ ফুঁকে দেওয়ার পর তথা গর্ভধারণের ১২০ দিন পর তা গর্ভপাত করানো একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হত্যার সমান অপরাধ। কেননা রুহ তথা জীবন লাভ করায় সে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে বিবেচিত। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যথার্থ কারণ ছাড়া আল্লাহ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন তোমরা তাকে হত্যা কোরো না।’ (সুরা আনআম, আয়াত : ১৫১; আল-কাওয়ানিন আল-ফিকহিয়্যা, পৃষ্ঠা ১৪১)

৪. বিশেষ প্রয়োজনে ছাড় : গর্ভস্থ সন্তানের মধ্যে ‘রুহ’ সৃষ্টির আগেও ভ্রূণ হত্যা করা নিষিদ্ধ।

তবে শরিয়ত অনুমোদিত কারণে গর্ভপাত করা জায়েজ আছে। যেমন মায়ের জীবন শঙ্কার মধ্যে পড়া। তবে এই ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ও দ্বিনদার চিকিৎসকের মতামত গ্রহণ করতে হবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘কিন্তু যে অনন্যোপায় অথচ অবাধ্য নয় কিংবা সীমালঙ্ঘনকারী নয়, তার কোনো পাপ নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৭৩;

আল ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু, পৃষ্ঠা ৫০২০)

আল্লাহ সবাইকে ভ্রূণ হত্যার মতো গর্হিত অপরাধ থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

➤লেখক : সাবেক সহকারী মেডিকেল অফিসার

রাবেয়া হেলথকেয়ার এন্ড মেডিসিন কর্নার।

➤General Physician at NAZRA AL ANIKA CO.LTD

Jeddah. KSA.