ঢাকা ০২:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম ::
বর্ষা // মো.বোরহান উদ্দীন ​শিল্পী সমিতির দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদপ্রার্থী নায়ক রাসেল মিয়া ​শিল্পী সমিতির দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদপ্রার্থী নায়ক রাসেল মিয়া আমেরিকা থেকে প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় প্রথম হলেন খুলনার “বিশিষ্ট কবি শওকত আলম” “”শাহ্ সুফী মাহফুজ রহমান’র দুটি কবিতা “ পাকুন্দিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাবেক জিএস আলহাজ্ব আহমদ ফারুক খোকন-এর গণসংযোগ দৈনিক নরসুন্দা সংবাদ এর সম্পাদক আফসার আশরাফী পেলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ স্মৃতি সম্মাননা-২৫ কবি শওকত আলম এর দুটি কবিতা…………………… কালের নতুন সংবাদ এর সম্পাদক খায়রুল ইসলামের জন্মদিন দৈনিক নরসুন্দা সংবাদ ও মাসিক সাময়িকী ঈসাখাঁ সাহিত্যপত্র-এর যৌথ উদ্যোগে পদক প্রদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মানবতার ফেরিওয়ালা খ্যাত পাকুন্দিয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার স্বপন কুমার দত্তের বদলী জনিত বিদায়ী সংবর্ধনা

মো.স্বপন হোসেন, পাকুন্দিয়া, কিশোরগঞ্জ :

মানবতার ফেরিওয়ালা নামে খ্যাত কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার স্বপন কুমার দত্তের বদলী জনিত কারণে বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অদ্য (২৮ এপ্রিল) মঙ্গলবার পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুপম দাসের সভাপতিত্বে উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। তিনি কটিয়াদি উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার হিসেবে বদলী হয়েছেন।

তিনি বিগত ১১ নভেম্বর ২০১৮ সালে যোগদান করে ৮ বছর ৪ মাস সততা ও নিষ্ঠার সহিত দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে নিরন্তর কাজ করেছেন। তাঁর পরিশ্রম, সাহস, ইচ্ছাশক্তি, একাগ্রতা ও প্রতিভার সমন্বয়ে সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই উল্লেখযোগ্য উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রেখে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। সর্বোপরি অসহায়, গরিব এবং মেহনতি মানুষের প্রকৃত জনদরদী হিসেবে তিনি উপজেলায় ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তার মাধ্যমে মানবতার ফেরিওয়ালা নামে খ্যাতি লাভ করেছেন।

উপজেলার হতদরিদ্র, অসহায় মানুষের উন্নয়নে তাঁর নিরন্তর প্রয়াস সচেতন মহলে প্রশংসা কুঁড়িয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে কর্মস্থলে নিজের মুখ উজ্জ্বল করেছেন তিনি।

ব্যক্তি জীবনে তিনি অত্যন্ত সৎ ও সময়নিষ্ঠা, সদা হাস্যোজ্জ্বল ও সাদা মনের মানুষ। তাঁর মাঝে কোনো অহংকার নেই। নিরহংকারী এই মানুষটি দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছে প্রিয়। মানবতার ফেরিওয়ালা নামে খ্যাত এই মানুষটি সর্বোপরি কাজ করেছেন অসহায়, হতদরিদ্র এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে।

উল্লেখ্য: ইতিপূর্বে এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে ট্যাগ অফিসার হিসাবে দায়িত্বে থাকাকালীন প্রচন্ড জ্বর ও মাথাব্যথা নিয়ে পরীক্ষা দিতে এসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া এক পরীক্ষার্থী পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তিনি। ঐ পরীক্ষার্থী পাকুন্দিয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের ছাত্র ও পৌর সদরের লক্ষীয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। অসুস্থ পরীক্ষার্থীর এমন পরিস্থিতিতে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দুই জন ডাক্তারকে ডেকে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদানের মাধ্যমে আলাদা কক্ষে পরীক্ষার ব্যবস্থা করে দেন তিনি।

এছাড়াও গত ৬ নভেম্বর ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত হওয়া উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাকুন্দিয়া সরকারি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে অংশ নেন মোছাঃ তানিয়া সুলতানা দিপা। তার সঙ্গে ছিল মাত্র দুই দিনের নবজাতক শিশু। এ বিষয়টিও তাঁর নজরে আসলে পরীক্ষার্থীকে তার নবাগত শিশুর জন্য ব্রেস্ট ফিডিংয়ের ব্যবস্থা করে দেন তিনি। এতেও ব্যাপক প্রশংসায় খুঁড়িয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে উপজেলার হোসেন্দী পশ্চিম আতকাপাড়া গ্রামের মোছাঃ সুরমা আক্তারের বিবাহের যখন মাত্র চার মাস ঠিক তখনই হঠাৎ বজ্রপাতে মারা যান তার স্বামী। মৃত্যুর সময় দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল সুরমা। খবর পেয়ে আবারও মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেন এই কর্মকর্তা। তাকে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে ভিডাব্লিউ’র আওতায় এনে দুই বছর মেয়াদী চালের কার্ড করে দেন এই মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দত্ত।

ইতোমধ্যে তিনি এসব কাজের জন্য সমাজের সকল শ্রেণি পেশার মতাদর্শের মানুষের কাছে একজন দক্ষ, পরিশ্রমী হিসাবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। ভোক্তাভুগীর সমস্যা সমাধানে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে একজন সফল ও জনপ্রিয় মহিলা অফিসার হিসেবে সর্বশ্রেণির মানুষের অন্তরে স্থান করে নিয়েছেন তিনি।

করোনা পরিস্থিতিতেও দিন রাত নিরলস ভাবে পরিশ্রম করে উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রতিটি কাজ অতি দক্ষতার সহিত সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

দীর্ঘ আট বছর চার মাস দায়িত্ব পালনকালে তিনি যেসব সেবা দিয়ে প্রশংসা খুঁড়িয়েছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: নারীর ক্ষমতায়ন, আত্মসামাজিক উন্নয়ন, আইনগত সহায়তা প্রদান, প্রশিক্ষণ প্রদান, উদ্যোক্তা তৈরি, নারীর সম্মাননা প্রদান, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, ইভটিজিং, খোরপোষ, দেনমোহর আদায়, বিবাহ বিচ্ছেদরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মামলার তদন্ত, স্থানীয়ভাবে নারী ও শিশু নির্যাতন অভিযোগ গ্রহণ ও শুনানি করে নিষ্পত্তি গ্রহণ।

নারীর স্বার্থ সংরক্ষণে জাতি, ধর্ম, দল, মত নির্বিশেষে সেবা প্রার্থী সকলের জন্য কাজ করেছেন তিনি।

ট্যাগস :

বর্ষা // মো.বোরহান উদ্দীন

মানবতার ফেরিওয়ালা খ্যাত পাকুন্দিয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার স্বপন কুমার দত্তের বদলী জনিত বিদায়ী সংবর্ধনা

আপডেট সময় : ১২:৩৬:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

মো.স্বপন হোসেন, পাকুন্দিয়া, কিশোরগঞ্জ :

মানবতার ফেরিওয়ালা নামে খ্যাত কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার স্বপন কুমার দত্তের বদলী জনিত কারণে বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অদ্য (২৮ এপ্রিল) মঙ্গলবার পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুপম দাসের সভাপতিত্বে উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। তিনি কটিয়াদি উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার হিসেবে বদলী হয়েছেন।

তিনি বিগত ১১ নভেম্বর ২০১৮ সালে যোগদান করে ৮ বছর ৪ মাস সততা ও নিষ্ঠার সহিত দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে নিরন্তর কাজ করেছেন। তাঁর পরিশ্রম, সাহস, ইচ্ছাশক্তি, একাগ্রতা ও প্রতিভার সমন্বয়ে সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই উল্লেখযোগ্য উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রেখে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। সর্বোপরি অসহায়, গরিব এবং মেহনতি মানুষের প্রকৃত জনদরদী হিসেবে তিনি উপজেলায় ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তার মাধ্যমে মানবতার ফেরিওয়ালা নামে খ্যাতি লাভ করেছেন।

উপজেলার হতদরিদ্র, অসহায় মানুষের উন্নয়নে তাঁর নিরন্তর প্রয়াস সচেতন মহলে প্রশংসা কুঁড়িয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে কর্মস্থলে নিজের মুখ উজ্জ্বল করেছেন তিনি।

ব্যক্তি জীবনে তিনি অত্যন্ত সৎ ও সময়নিষ্ঠা, সদা হাস্যোজ্জ্বল ও সাদা মনের মানুষ। তাঁর মাঝে কোনো অহংকার নেই। নিরহংকারী এই মানুষটি দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছে প্রিয়। মানবতার ফেরিওয়ালা নামে খ্যাত এই মানুষটি সর্বোপরি কাজ করেছেন অসহায়, হতদরিদ্র এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে।

উল্লেখ্য: ইতিপূর্বে এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে ট্যাগ অফিসার হিসাবে দায়িত্বে থাকাকালীন প্রচন্ড জ্বর ও মাথাব্যথা নিয়ে পরীক্ষা দিতে এসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া এক পরীক্ষার্থী পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তিনি। ঐ পরীক্ষার্থী পাকুন্দিয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের ছাত্র ও পৌর সদরের লক্ষীয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। অসুস্থ পরীক্ষার্থীর এমন পরিস্থিতিতে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দুই জন ডাক্তারকে ডেকে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদানের মাধ্যমে আলাদা কক্ষে পরীক্ষার ব্যবস্থা করে দেন তিনি।

এছাড়াও গত ৬ নভেম্বর ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত হওয়া উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাকুন্দিয়া সরকারি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে অংশ নেন মোছাঃ তানিয়া সুলতানা দিপা। তার সঙ্গে ছিল মাত্র দুই দিনের নবজাতক শিশু। এ বিষয়টিও তাঁর নজরে আসলে পরীক্ষার্থীকে তার নবাগত শিশুর জন্য ব্রেস্ট ফিডিংয়ের ব্যবস্থা করে দেন তিনি। এতেও ব্যাপক প্রশংসায় খুঁড়িয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে উপজেলার হোসেন্দী পশ্চিম আতকাপাড়া গ্রামের মোছাঃ সুরমা আক্তারের বিবাহের যখন মাত্র চার মাস ঠিক তখনই হঠাৎ বজ্রপাতে মারা যান তার স্বামী। মৃত্যুর সময় দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল সুরমা। খবর পেয়ে আবারও মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেন এই কর্মকর্তা। তাকে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে ভিডাব্লিউ’র আওতায় এনে দুই বছর মেয়াদী চালের কার্ড করে দেন এই মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দত্ত।

ইতোমধ্যে তিনি এসব কাজের জন্য সমাজের সকল শ্রেণি পেশার মতাদর্শের মানুষের কাছে একজন দক্ষ, পরিশ্রমী হিসাবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। ভোক্তাভুগীর সমস্যা সমাধানে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে একজন সফল ও জনপ্রিয় মহিলা অফিসার হিসেবে সর্বশ্রেণির মানুষের অন্তরে স্থান করে নিয়েছেন তিনি।

করোনা পরিস্থিতিতেও দিন রাত নিরলস ভাবে পরিশ্রম করে উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রতিটি কাজ অতি দক্ষতার সহিত সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

দীর্ঘ আট বছর চার মাস দায়িত্ব পালনকালে তিনি যেসব সেবা দিয়ে প্রশংসা খুঁড়িয়েছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: নারীর ক্ষমতায়ন, আত্মসামাজিক উন্নয়ন, আইনগত সহায়তা প্রদান, প্রশিক্ষণ প্রদান, উদ্যোক্তা তৈরি, নারীর সম্মাননা প্রদান, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, ইভটিজিং, খোরপোষ, দেনমোহর আদায়, বিবাহ বিচ্ছেদরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মামলার তদন্ত, স্থানীয়ভাবে নারী ও শিশু নির্যাতন অভিযোগ গ্রহণ ও শুনানি করে নিষ্পত্তি গ্রহণ।

নারীর স্বার্থ সংরক্ষণে জাতি, ধর্ম, দল, মত নির্বিশেষে সেবা প্রার্থী সকলের জন্য কাজ করেছেন তিনি।