তুলোর মতো উড়ছে দেহ—
ছিন্ন মাংস, পুড়ে যাওয়া কণ্ঠ, বিস্ময়ে তাকানো শিশুর-চোখ,
ধোঁয়ার দেয়ালে ঝুলে আছে জ্বলন্ত আত্মা—
গাজার আকাশে আজও অগ্নিপতাকা।
ধ্বংসস্তূপে শুয়ে আছে ইতিহাসের কঙ্কাল,
যেখানে একদিন ছিলো বইয়ের হরফ,
আজ সেখানে শুধুই আগুনের লিপি—
রক্তমাখা সুরা, জ্বালাময় প্রার্থনা।
মায়ের মুখে লেগে আছে চাপা ক্রন্দন,
সে জানে, আর ফিরবে না তার ছেলেটি
যার স্কুলব্যাগে ছিলো ‘আলিফ’ আর ‘বিসমিল্লাহ’।
তাঁর বুকের দুধে ছিলো আশীর্বাদ —
সবই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে,
পবিত্র ভূমির ওপরে নেমে এলো মৃত্যুর কুৎসিত কার্পেট।
ও বিশ্ব!
তোমার সভ্যতা কি পাথর দিয়ে গড়া?
মানবতা কি শুধুই ক্ষমতাবানদের পালক বসানো মুকুট?
তুমি কি দেখো না, সেই শিশুটি
যার নাম ছিলো ‘আমান’?
যার ঠোঁটে ছিলো ‘শান্তি’ শব্দের প্রথম উচ্চারণ?
ড্রোনের চোখে স্বপ্ন ধ্বংস হয়,
ট্যাঙ্কের চাকার নিচে কচি ডানার শব্দ থেমে যায়—
এভাবেই একটি জাতি ধুঁকছে
আত্মরক্ষার নামেও যাদের অধিকার নেই।
আহ্, ফিলিস্তিন!
তুমি তো কেবল এক ভূখণ্ড নও—
তুমি আহত মানবতার হৃদয়রেখা,
তুমি শহীদের স্পর্শে পবিত্র ভূমি,
তুমি ধ্বংসের মাঝে বেচে থাকার আকুতি।
তবুও কেউ এগিয়ে আসে না—
শান্তির পাখি উড়তে জানে না বারুদের আকাশে।
জাতিসংঘের নীরবতা যেনো শকুনের দাঁত—
আর তার সভা কেবল সংখ্যার খেলা।
তাদের বিবেক বিক্রি হয়ে গেছে—
ক্ষমতার বাজারে, অস্ত্রের লেনদেনে।
তুমি কি শুনো না, হে মানুষ?
পৃথিবীর প্রাচীনতম কান্না—
যার প্রতিটি আঘাত থেকে রক্ত ঝরে পড়ে
শান্তির দাবিদার তোমাদের মুখে থুথু ?
উঠো, ও বিশ্ব!
উঠো, তোমার বুকে এখনও একটু আলো জ্বলে।
কারণ ফিলিস্তিন কাঁদছে না কেবল—
সে প্রশ্ন করছে তোমার অস্তিত্ব,
তুমি মানুষ তো?
তবে কেন পশুর মতো চুপচাপ?
প্রতিনিধির নাম 









