কবি’র জীবন নানান বৈচিত্রে ভরা গাছে গাছে পাখিধরা, ফাদপেতে পাখি শিকার করা, নদীতে ঝাপ সাঁতার কাটা, নদীর ঘোলের পাকে সাঁতার খেলায় তার জীবন প্রদীপ নিভে যাচ্ছিল আর কী – খোদার কৃপায় সে যাত্রায় রক্ষাপান। তিনি শিশু কালে মাঠে মাঠে গরু মহিষ চরিয়েছেন। কবি শওকত আলম তার মাকে খুব ভালোবাসতেন। তার মা ২০০২ সনে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেই থেকে তিনি ২০১২ সালে ২৬ মার্চ পর্যন্ত কোন আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাননি। তা মায়ের মৃত্যুর পর থেকে আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে আবার যাতয়াত শুরু করেন। তার মাকে তিনি ভীষণ ভালোবাসতেন। তার মায়ের কদমমুচী ছাড়া তিনি কখনো বাড়ির বাহির হতেন না। দূর থেকে বাড়িতে আসলে প্রথমে মায়ের পায়ে কদমমুচী করতেন। এটা ছিল কবি শওকত আলম’র একটি রুটিন।
প্রতি ঈদে বাড়িতে সকলের আগে মায়ের জন্য নতুন শাড়ি ক্রয় করতেন। সপ্তাহে দু’দিন মায়ের জন্য আলাদা ভাবে হাট থেকে মিষ্টি খাবার কিনতেন। মায়ের মৃত্যুর ৬/৭ মাস পরে তার শোয়ার কামরা পরিষ্কার করতে গিয়ে দেখা গেলো মায়ের ব্যাগের মধ্যে একটি বাদামের টোপলা বাঁধা আছে। মাকে তিনি একটা কাঁচের দামিপ্লেট কিনে দিয়েছিলেন তাতে তিনি নিয়মিত খাবার খাতেন। তার জীবনে বহুবার মৃত্যুর ঝুকি এসেছে কিন্তু তাতে তার কিছুই হয়নি। কারণ তার সাথে আছে পিতা মাতার অসীম দোয়া।
শিশুকালে তার এক নিকট আত্মীয় জনৈক ভাবি তাকে মারার জন্য ভাতের ( ছাগলের দুধ মতো করে ভাতের মধ্যে মিশিয়ে দেন। তার ফুফু খোদেজান বৌমাকে জিজ্ঞাসা করেন দুধ কোথায় পেলে বাড়িতে কোন গরু ছাগল নেই তো ? তখন বিষয়টি ধরা পড়ে যায়। কবি কাছ থেকে তখন তার ফুফু সেঁজির আঁঠা মাখানো ভাতের পেলেট খানা কেড়ে নিয়ে বাহিরে ছুড়ে ফেলে দেন ) ভিতরে সেঁজির আঁঠা মিশায়ে দেন কিন্তু তার ফুফু খোতিজান বিবি বিষয়টি দেখে ফেলেন। আর একবার আলকাতরা খাওয়ায়ে মারার পরিকল্পনা করেন কিন্তু তার সেজো চাচা গহর আলী সরদার বিষয়টি দেখে ফেলেন। তাই সে যাত্রায় তিনি বেঁচে যান। অবশেষে সেই ভাবি তাকে খুন করার পরিকল্পনা করেন এবং গলায় দা দিয়ে পোচ দেন কিন্তু সাথে সাথে তার বড় চাচা ওমর আলী সরদার দেখে তাকে উদ্ধার করেন। এই ভাবির সন্তান হয়ে বাঁচতো না, তাই তার ভিতরে সব সময় এক প্রকার হিংসার ধ্বংসলিলা কাজ করতো। অবশেষে তার পিতা মাতা কবি শওকত আলমকে নিয়ে স্বপরিবারে , খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার অন্তগত “নরনিয়া “গ্রামে চলে আসেন।
প্রতিনিধির নাম 









