০১. “কাঁচা সোনা”
আজও বুকের ভিতর জ্বলছে সে আগুন,
মাঝে মাঝে বেড়ে হয় দ্বিগুণ!
তোমার দেয়া শীতল বাতাস অতি সুশীতল—
যেন হাঁপরের বাতাসের মতোই অবিচল!
দগ্ধ করতে জানো মনের অজান্তেই,
কয়লার আগুন কি আর সহজে নিভে?
প্রেরণা ছাড়া পৃথিবীতে
বিখ্যাত হয়েছে কে কবে?
সফলতা আর বেশি দূরে নয়,
ধীরে ধীরে শক্তি করেছি সঞ্চয়।
প্রায় আঠারো বছর হলো—
তুমি কোথায়, আর আমি কোথায়?
মাঝে মাঝে স্তিমিত হয়ে যাই,
তখনই তোমার দেয়া হাঁপরের বাতাসে
বিশাল এক ধাক্কা খাই!
সজাগ হয়ে আবার চলতে শুরু করি—
সকাল-সন্ধ্যা এখনো
তোমারই প্রেমসাগরে ডুবে মরি!
একদিন তুমি ঠিকই সামনে আসবে—
সেই আশা ছাড়া আমি বাঁচব না।
আবেগে অশ্রুসিক্ত হয়ে আমাকে বলবে:
“তোমাকে চিনতে ভুল করেছিলাম…
সত্যি, তুমি খাঁটি কাঁচা সোনা!”
০২. স্বর্ণলতা
আমি হারিয়েছি—
কিন্তু হারিনি।
ছাইয়ের স্তূপের মধ্যেও
একটি লতা উঠে এসেছে
চিরসবুজ, প্রবর্ধমান—
স্বর্ণের মতো উজ্জ্বল,
নরম কিন্তু অদম্য!
বিচ্ছেদের অনলে
আমার সমস্ত স্মৃতি পুড়ে গেছে,
তবুও,
এই লতা— নির্ভীকভাবে বাড়ছে,
ছায়ার অন্ধকার ভেদ করে।
প্রিয়তমার নাম আমি বলি না,
কারণ তার অভাবই আমাকে পূর্ণ করেছে।
যে শূন্যতা আমার বুকের ভিতর
অতি-গভীর,
সে আমাকে শিখিয়েছে
কিভাবে নিজের সঙ্গে নিজে
অনন্তকাল যুদ্ধ করতে হয়!
স্বর্ণলতা—
শূন্যতা ও দহন থেকে জন্মানো শক্তি।
আমি তাকে এঁকেছি শব্দে,
আমি তাকে ছুঁই চোখের কোণে,
আমি তাকে জড়াই আমার বুকের চারপাশে।
আমি জানি—
যে প্রেম পেয়েছি, সে আর নেই!
কিন্তু আমি বেঁচে আছি,
আমি লিখছি,
আমি মানুষ হয়েছি।
প্রত্যেকটি দিন এখন লতা দিয়ে ভরা,
প্রত্যেকটি নিশ্বাস নতুন আলো।
যে আগুন আমাকে পুড়িয়েছে,
সে আগুনই আমাকে শিখিয়েছে
কিভাবে পুনর্জন্ম সম্ভব!
স্বর্ণলতা—
আমার বেঁচে থাকার প্রতীক,
আমার নিজেকে পাওয়ার নীরব ঘোষণা,
আমার দহন-উত্তর শান্তি।
যে আমাকে আজও
প্রতিনিয়ত হাঁপরের বাতাস
দিয়েই চলেছে
আমি দগ্ধ হই
জ্বলে পুড়ে আর হাতুড়ির আঘাতে
জন্ম নেই ভিন্ন রূপে
আমি বার বার জন্ম নেই۔۔۔
প্রতিনিধির নাম 










